ফুলবেড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ দিবস পালন: দেশপ্রেম ও ত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত নতুন প্রজন্ম

তাহাল্কা নিউজ 24 প্রতিনিধি কাজল রায় চৌধুরী রূপনারায়ণপুর। পশ্চিম বর্ধমান জেলার ফুলবেড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারতীয় মানবাধিকার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে শহীদ দিবস পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এক অনন্য দেশাত্মবোধক আবহে ভরে ওঠে। যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।অনুষ্ঠানের সূচনায় শহীদদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মণ্ডল, সমিতির মহকুমা সভাপতি ডঃ বিনয় কুমার, জনসংযোগ আধিকারিক অশোক সিনহা, সালানপুর মহিলা সচিব শ্রাবণী দাস, এজিএস প্রণব চন্দ, সদস্য বিনোদ কুমার, কোষাধ্যক্ষ বিনোদ লাল, সমর সরকার সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা একযোগে এই শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। তাঁদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।এই দিনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান বীরদের আত্মবলিদান। বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় ভগৎ সিং, সুখদেব থাপর এবং শিবরাম রাজগুরু কে। যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য অকুতোভয়ে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। বক্তারা তাঁদের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের কাহিনি বিশদভাবে তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের সেই আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।বক্তারা বলেন আজকের প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি কারণ এই ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে এই ধরনের অনুষ্ঠান বিশেষ ভূমিকা পালন করে।অনুষ্ঠানে ডিএলএসএ সম্পর্কেও সচেতনতা বাড়ানো হয়। কীভাবে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেতে পারেন সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও উপকৃত হন।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত বক্তব্যে বলা হয় শুধুমাত্র বইয়ের পাঠ নয় বাস্তব জীবনে মানবিক মূল্যবোধ, সততা এবং সমাজসেবার মানসিকতা গড়ে তোলাই প্রকৃত শিক্ষা। শহীদদের জীবন কাহিনি সেই দিকনির্দেশনা দেয়। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের শেখায় কীভাবে দেশ ও সমাজের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হয়।অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারা মনোযোগ সহকারে বক্তাদের বক্তব্য শোনে এবং শহীদদের জীবন সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের অনুভূতিও প্রকাশ করে যেখানে তারা দেশপ্রেম ও সমাজসেবার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কারণ নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং তাদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তাধারা গড়ে তুলতে এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অনুষ্ঠানের শেষে সকল ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ফল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করে এবং অনুষ্ঠানের একটি সুন্দর সমাপ্তি ঘটায়।সর্বোপরি ফুলবেড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং এটি ছিল এক গভীর শিক্ষামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা। শহীদদের স্মরণ করে সকলেই তাঁদের আদর্শে চলার প্রতিজ্ঞা করেন এবং দেশপ্রেমের বার্তা আরও একবার হৃদয়ে ধারণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *